ন্যাশনাল টির সাবস্ক্রিপশনের সময় বাড়ল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবিত মূলধন বৃদ্ধির জন্য শেয়ার ইস্যুর সাবস্ক্রিপশনের সময়সীমা বেড়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবিত মূলধন বৃদ্ধির জন্য শেয়ার ইস্যুর সাবস্ক্রিপশনের সময়সীমা বেড়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২৭ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে। আজ এ সাবস্ক্রিপশন শুরু হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ সরকার, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ও সাধারণ বীমা করপোরেশনের অনুকূলে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার ১২০টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নতুন করে ৪ দশমিক ৪৩টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। অন্যান্য পরিচালকের অনুকূলে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নতুন ৩ দশমিক ২১টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে অন্য শেয়ারহোল্ডারের জন্য ৯৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নতুন ২ দশমিক ৮৫টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। সব মিলিয়ে কোম্পানিটি মোট ২ কোটি ৩৪ লাখ শেয়ার ইস্যু করবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নতুন ৩ দশমিক ৫৫টি শেয়ার ইস্যু করা হবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২ কোটি ৩৪ লাখ শেয়ার ১১৯ টাকা ৫৩ পয়সায় ইস্যু করা হবে। এক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৯ টাকা ৫৩ পয়সা। শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানিটির মূলধন ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার টাকা বাড়ানো হবে। কারখানার উন্নয়ন, চলতি মূলধন খাতে অর্থায়ন ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য এ প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করা হবে। এ পর্যন্ত চারবার শেয়ার ইস্যুর সাবস্ক্রিপশন বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে ন্যাশনাল টি।

এর আগে বিএসইসির ৯২৬তম কমিশন সভায় চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে ন্যাশনাল টির মূলধন বাড়াতে শেয়ার ইস্যুর সাবস্ক্রিপশন আবেদনের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিশনের সম্মতিপত্রে উল্লিখিত সরকারের শেয়ার ৫১ শতাংশ বৃদ্ধির শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ন্যাশনাল টির আবেদন অনুসারে মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রদত্ত সম্মতিপত্রের মেয়াদ (শেয়ারের চাঁদা গ্রহণের সময়সীমাসহ) আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংগৃহীত চাঁদার ক্ষেত্রে সরকারের শেয়ার ৫১ শতাংশ বাড়ানোর শর্ত পরিপালিত না হলে কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোম্পানিটি ওই চাঁদা ব্যবহার করতে পারবে না।

এতে আরো বলা হয়, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ন্যাশনাল টি গত পাঁচ বছরে সরকারি শেয়ারধারণ হ্রাসের কারণ, শেয়ার বিক্রয় বা হস্তান্তরের মাধ্যমে ওই কোম্পানির মূলধন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, শেয়ারের চাঁদা গ্রহণের সময় বাড়ানোর আবেদন প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবে শেয়ার ক্রেডিট করার কারণ, বিদ্যমান বর্তমান ঋণের দায়, তিন বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানের কারণ, কোম্পানির শেয়ারদরের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণ ও মূলধন বৃদ্ধির সম্মতিপত্রে উল্লেখিত শর্ত পরিপালিত হয়েছে কিনা তা যাচাই করাসহ অন্যান্য বিষয়ে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে।

১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টির অনুমোদিত মূলধন ২৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ৩৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৪। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া সরকরের কাছে ২ দশমিক ৫৯, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক ২২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি ন্যাশনাল টি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০৭ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯৬ টাকা ২৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৫৫ টাকা ৬৯ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি ন্যাশনাল টি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯৬ টাকা ২৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৪ টাকা ৪৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ১৯ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল টির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৪ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩১ টাকা ৬৮ পয়সা। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩১ টাকা ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৫ টাকা ৭১ পয়সা।

আরও